, , , , , , ,

রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, এরপরও বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া

রংপুর প্রতিনিধি রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে গোসল ও খাওয়া-দাওয়া করে এবং পরে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী…

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে গোসল ও খাওয়া-দাওয়া করে এবং পরে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছরের ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। গত ২০ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার নবনির্মিত দোতলা বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণ নির্মাণাধীন পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি তাদের দেখে ফেলেন এবং বাধা দেন। পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পরবর্তীতে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

হত্যার পরও বাড়িতে অবস্থান

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চারজনকে হত্যার পর অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেনি। তারা ওই বাড়িতেই রাত কাটায়, বাথরুমে গোসল করে এবং ঘরে থাকা খাবার খায়। এমনকি পুলিশের দাবি, চারটি মরদেহের কাছেই তারা আবার ইয়াবা সেবন করে।

ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ জন্য ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করা এবং আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার

ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিআইডির যৌথ অভিযানে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে মাদক সরবরাহের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত পরিবারের স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: পুলিশ ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Latest News

View All

About the Author

Easy WordPress Websites Builder: Versatile Demos for Blogs, News, eCommerce and More – One-Click Import, No Coding! 1000+ Ready-made Templates for Stunning Newspaper, Magazine, Blog, and Publishing Websites.

Search the Archives

Access over the years of investigative journalism and breaking reports

You May Have Missed