ঢাকা: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসন’ উল্লেখ করে ভোট না দেওয়ার তিনটি কারণ জানিয়েছেন তিনি।
রুমিন ফারহানার প্রথম কারণ, তাঁর মতে—যে নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকে না, সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল আগেই জানা ছিল দাবি করে তিনি এটিকে নির্বাচন নয়, বরং ‘মনোনয়ন’ হিসেবে দেখেছেন।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বিবেচনায় সব রাজনৈতিক দল মিলে একজন অরাজনৈতিক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।
তৃতীয় এবং নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে এই ভোটকে তিনি প্রহসনের অংশ হিসেবে দেখেছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, এসব কারণেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটে অংশ নেননি। তবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।
রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার তিন কারণ—
১. ফলাফল আগে থেকেই জানা ছিল—তাই তাঁর কাছে এটি নির্বাচন নয়, মনোনয়ন।
২. সব দলের ঐকমত্যে অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়নি।
৩. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার বিষয়ে চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ।

















