প্রজ্ঞা নিউজ- নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে আম শুধু একটি জনপ্রিয় ফলই নয়, বরং কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে এ খাত নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের চারা এবং কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের পরিধি বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদনের পাশাপাশি সংগ্রহ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে আম সংগ্রহ, গ্রেডিং এবং মান অনুযায়ী বাছাই করলে বাজারে ভালো মূল্য পাওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে উন্নত প্যাকেজিং ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা ফলের অপচয় কমাতে সহায়তা করে।
বাজার ব্যবস্থাপনায়ও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। বর্তমানে পাইকারি বাজারের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অধিক লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, আম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। আম থেকে জুস, জ্যাম, আচার, আমসত্ত্ব, পাল্পসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফলের অপচয় কমছে, অন্যদিকে সারা বছর বাজারে আমভিত্তিক পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত সংরক্ষণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদন করা গেলে দেশের আম শিল্প রপ্তানি খাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে আম খাত দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।
