সর্বশেষ

মেহেরপুর সীমান্তে আবারও পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের উদ্যোগ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক | মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬

মেহেরপুরের সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে আবারও চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপির খালপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের এপাশে নোম্যান্স ল্যান্ড ও ভারতীয় জমির মধ্যবর্তী একটি বাঁশঝাড়ের নিচে একজন নারী ও তিনজন পুরুষকে বসে থাকতে দেখেন বাংলাদেশ অংশে কৃষিকাজে নিয়োজিত কয়েকজন কৃষক। পরে তারা বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সময় সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকরা স্থান ত্যাগ করেন। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চারজনকে আর খুঁজে পাননি। তাদের বিএসএফ ফেরত নিয়ে গেছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ধারণা, ভারতীয় কাঁটাতারের এপাশে ভারতীয় জমি, নোম্যান্স ল্যান্ড এবং বাংলাদেশের পাটক্ষেত থাকায় ওই এলাকায় কেউ লুকিয়ে থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

এদিকে, চারজনকে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করতে দেখার খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তবে তাদের পরিচয়, জাতীয়তা কিংবা কী কারণে সীমান্ত এলাকায় আনা হয়েছিল—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাস্থলের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন,
“শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।”

তিনি আরও বলেন,
“সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।

পূর্বেও উঠেছিল একই অভিযোগ

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে বিএসএফের বিরুদ্ধে। পরে পাশের ৫-এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে আরও ছয়জনকে পুশইন করা হয় বলে জানা যায়।

পুশইনের শিকার ওই ১৩ জনের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বর্তমানে গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে অবস্থান করছেন। এ ঘটনার পর সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করে বিজিবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *