৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য নতুন সুবিধা, উত্তোলন করা যাবে ১০ লাখ টাকা
awlad • 4 weeks আগে
নিজস্ব প্রতিবেদক | Progga News
পাঁচটি একীভূত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ থাকছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
চিকিৎসার সুযোগ বাড়ল
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ স্কিমের আওতায় আগে আমানতকারীরা মূলত নিজেদের চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলন করতে পারতেন। সংশোধিত ব্যবস্থায় সেই সুযোগের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
এখন থেকে আমানতকারীরা নিজের পাশাপাশি বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন এবং স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যও অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চালু থাকা বিশেষ স্কিমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শর্তগুলো সহজ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসার বাইরেও পরিবারের বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। সন্তানের বিয়ে, পরিবারের সদস্যের আকস্মিক চিকিৎসা কিংবা অন্য কোনো অনিবার্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
যে পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়েছে
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—
- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
- সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
- ইউনিয়ন ব্যাংক
- গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
- এক্সিম ব্যাংক
এসব ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারী পেয়েছেন অর্থ
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে বিশেষ স্কিমের পাশাপাশি আমানত বীমা তহবিল থেকেও অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম চলছে। ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
খেলাপি ঋণে বড় সংকট
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতিও সংকটপূর্ণ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগের সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও অভিযোগ ছিল। একই সময়ে অনিয়ম ও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া ঋণ বিতরণের অভিযোগও ওঠে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ আগের তুলনায় বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



