, , , , , , ,

পাবজি-ফ্রি ফায়ার নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুকে হত্যা, পাঁচ বছর পর দুই কিশোরের সর্বোচ্চ সাজা

মেহেরপুর প্রতিনিধি:মোবাইল গেম পাবজি ও ফ্রি ফায়ার খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় পাঁচ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। শিশু আইনের আওতায় অভিযুক্ত দুই কিশোরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে স্মার্টফোন থেকে পাবজি ও ফ্রি ফায়ার অ্যাপ দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার…

মেহেরপুর প্রতিনিধি:
মোবাইল গেম পাবজিফ্রি ফায়ার খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় পাঁচ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। শিশু আইনের আওতায় অভিযুক্ত দুই কিশোরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে স্মার্টফোন থেকে পাবজি ও ফ্রি ফায়ার অ্যাপ দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং একই গ্রামের নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া উভয়কে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ও ৩৮৫ (চাঁদাবাজি/মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা) ধারার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ঘটনার সময় আসামিরা শিশু হওয়ায় শিশু আইনের আওতায় এটাই তাদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৬ জুন বিকেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুজ্জামানের ছেলে রেজোয়ান আল আবিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিম। বের হওয়ার সময় আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নেয়। পরে তিনজন মোটরসাইকেলে করে এলাকা ত্যাগ করে।

কয়েক ঘণ্টা পর আবিরের ব্যবহৃত ইমো নম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় থাকা তার বাবার কাছে ফোন করা হয়। হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলা হয়, টাকা না দিলে আবিরকে হত্যা করা হবে। বিষয়টি জানার পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। তারা জানায়, পাবজি ও ফ্রি ফায়ার খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই গাংনী উপজেলার মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ এলাকায় আবিরকে হত্যা করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর নিহতের মা রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের অতিরিক্ত নির্দেশনা

রায়ে আদালত দেশে স্মার্টফোন থেকে পাবজি ও ফ্রি ফায়ার অ্যাপ দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কিশোরের পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রত্যেকের ৫ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Latest News

View All

About the Author

Easy WordPress Websites Builder: Versatile Demos for Blogs, News, eCommerce and More – One-Click Import, No Coding! 1000+ Ready-made Templates for Stunning Newspaper, Magazine, Blog, and Publishing Websites.

Search the Archives

Access over the years of investigative journalism and breaking reports

You May Have Missed